ঢাকা, বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২১ || ১৪ মাঘ ১৪২৭    Banglarpratidin.com

ময়মনসিংহে মানবতা বনাম নাটকীয়তা নেপথ্যে অন্ধ ভিক্ষুক মানিকের এক কাঠা জমি

আনিস আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:০৫ ১৪ জানুয়ারি ২১

ময়মনসিংহে মানবতা বনাম নাটকীয়তা নেপথ্যে অন্ধ ভিক্ষুক মানিকের এক কাঠা জমি

ময়মনসিংহে মানবতা বনাম নাটকীয়তা নেপথ্যে অন্ধ ভিক্ষুক মানিকের এক কাঠা জমি

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মানিক মিয়ার ক্রয়কৃত এক কাঠা জমি আত্মসাৎ করতে ব্যর্থ হয়ে মানিককে আইনগত সহায়তা প্রদানকারী পুলিশকে হয়রানি করতে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে একটি মানববন্ধন করে খোদেজা ও আবু বক্কর সিদ্দিক গং। টক অব দ্যা টাউন এখন মানবতা বনাম নাটকীয়তা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক বনাম বৃদ্ধা কান্ডে সরগরম পুরো ময়মনসিংহ এমনি সমগ্র দেশ। সংবাদ সম্মেলনে খোদেজা বেগমের কান্না ও তাদের অভিযোগ শুনে যে কারো খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতাটা একেবারেই ভিন্ন যার নেপথ্যে রয়েছে এককাঠা জমি আত্মসাৎ এর ভয়ানক কাহিনী। এমনকি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মানিককে মারধর করা থেকে শুরু করে গুম খুনের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। এরপর মানিক মিয়া খোদেজা বেগম আবু বক্কর সিদ্দিক সহ ৬ জনকে আসামী করে মামলা করলে পুলিশ ৩ জনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে। পুলিশের আইনী সহায়তা ও এলাকাবাসীর সহায়তায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মানিক তার জমি দখল পায়। এরপর খোদেজা গং জামিনে বের হয়ে এসে নতুন কৌশল হিসেবে পুলিশকে ব্যবহার করে স্বার্থ সিদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারই প্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে মনগড়া মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয় এবং মায়া কান্নার অভিনয় করা হয়, যা দেখে হতবাক হয়েছেন স্হানীয়রা। এবিষয়ে স্হানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানান, ভাই আপনারা সাংবাদিক এবং সমাজের দর্পণ আর আপনাদের মাধ্যমে ময়মনসিংহে যে ন্যাকা কান্নার শুটিং টি হলো তা দেখে আমরা হতবাক হয়েছি। কি সুন্দর উপস্থাপন আর কি মায়া কান্না যা ভিডিওতে দেখে ক্ষণিকের জন্য আমরাও কেঁদে ফেলেছিলাম কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা খোদেজার মায়া কান্না ফলাও করে প্রচার করলেন কিন্তু অন্ধ ভিক্ষুক মানিককে মারধর করে তার কেনা জমি দখল করতে না দিলেও কোন সংবাদ প্রকাশ করেন নাতো। এই বৃদ্ধার মায়া কান্না দেখালেন আপনারা কিন্তু তার কান্নার অভিনয়ের পিছনে কারণটা কি আবিস্কার করলেন নাতো? যখন সে অন্ধ ভিক্ষুক মানিককে মারধর করল তখন সে কি বৃদ্ধ ছিলনা? যদি বৃদ্ধই হতেন তাহলে মানিককে মারধর করলেন কিভাবে? সে আসলে পুরাইন্না অভিনেত্রী।কোথায় কি করতে হবে সেটা খোদেজা ভাল করেই জানে। খোদেজা ও আবু বক্কর সিদ্দিকদের মত লোকদের দ্বারা অনেক অসহায় হতদরিদ্র মানুষ দিনের পর দিন নির্যাতিত হচ্ছে তারই একটি উদাহরণ মুক্তাগাছার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা বৃদ্ধি করে খাওয়া নির্যাতিত মানিক। আর মুক্তাগাছা থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস এই অন্ধ ভিক্ষুক মানিককে আইনী সহায়তা প্রদান করে একটি মানবিক কাজ করেছেন। তার মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণায় আজ মুক্তাগাছা থানায় সকল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত, আমরা ধন্যবাদ জানাই বিপ্লব কুমার বিশ্বাসকে। তার কর্মকান্ডের জন্য মুক্তাগাছাবাসী সাড়া জীবন মনে রাখবে। বাংলাদেশের প্রতিটি থানায় এমন একজন করে পুলিশ কর্মকর্তা থাকলে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। স্হানীয় এবং ভুক্তভোগী মানিক ও প্রশাসনের ভাষ্যমতে কয়েকটি প্রশ্ন উঠে আসে, সেই প্রশ্ন গুলোর উত্তর পেতে প্রশাসন ও আইনজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মুক্তাগাছাবাসী।প্রশ্ন গুলো হলো ১. ভিখারির ভিক্ষা করা টাকায় কেনা ১ কাঠা জমিতে এত দিন দখল দিলনা কেন? ২. যদি জমি দিতে নাপারে তাহলে অন্তত তাহার কাছ থেকে নেওয়া দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে সমাধান করলেন না কেন? ৩. কান্না করা বৃদ্ধা খোদেজা মানিককে মারধর করার সময় কি সে বৃদ্ধ ছিলনা? যদি বৃদ্ধ হতেন তাহলে অন্ধ মানিককে মারধর করলেন কে? তার কি একটু মমত্ববোধও জন্মায়নি এই অন্ধের প্রতি? ৪. মামলা হলে পুলিশ প্রশাসন আসামীকে কি গ্রেফতার করবে না? (সেটা বৃদ্ধা বা যুবক) ৫. ৫৭ বছর বয়স হলে তাকে আসামী করা কিংবা গ্রেফতার করা যাবেনা এমন কোন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কি প্রশাসনকে? ৬. আইনজ্ঞদের কাছে প্রশ্ন, বয়স্ক কোন ব্যাক্তি যদি অপরাধী হয় তাহলে আদালত তাকে কি শাস্তি দিবেনা? এই প্রশ্ন গুলোর উত্তরের অপেক্ষায় মুক্তাগাছাবাসী। কেননা মুক্তাগাছাবাসী মনে করে সৃষ্ট ঘটনার সঠিক তদন্ত ও এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পেলে হয়তো প্রশাসনিক ভাবে আইনের সহযোগিতা বঞ্চিত হবে তারা।