ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২১ || ৬ কার্তিক ১৪২৮    Banglarpratidin.com

ময়মনসিংহে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট এর অভিযান। জরিমানা ৩ হাজার টাকা

প্রকাশিত: ২২:৩১ ২২ সেপ্টেম্বর ২১

ময়মনসিংহে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট এর অভিযান। জরিমানা ৩ হাজার টাকা

ময়মনসিংহে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট এর অভিযান। জরিমানা ৩ হাজার টাকা

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।। ময়মনসিংহে ফাস্টফুডের দোকানকে ফ্রিজে কাঁচা মাংসের সাথে দৈ রাখার অপরাধে এবং চরপাড়া মোড়ে একটি মুরগীর দোকানে মূল্য তালিকা না টানানোর অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৩হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ২১শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার চরপাড়া এলাকায় জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেগুফতা মেহেনাজ এর নেতৃত্বে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল, মানহীন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য এবং খাদ্যপণ্যে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদি ধ্বংস করা হয়েছে। সুস্বাস্থ্যের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই। অথচ স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পাওয়া এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ভেজাল খাবারে ছেয়ে গেছে দেশ। ভেজাল খাদ্যের রয়েছে নানা প্রকারভেদ। সারা দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের ভেজাল ও মানহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদন, মজুত ও বিক্রি করছে। খাদ্যপণ্যের স্বাদ বাড়ানোর লক্ষ্যে কিংবা পচন রোধ করতে অথবা খাদ্যপণ্যটিকে আকর্ষণীয় করার উদ্দেশ্যে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিক্রি করছে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য। এ ছাড়া অনেক হোটেল ও রেস্টুরেন্টে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশন করা হচ্ছে। আবার খাদ্য উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান বা রেস্টুরেন্টের নেই কোনো ধরনের ফুড প্রসেসিং লাইসেন্স। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা এমনকি শিশুখাদ্যেও মেশাচ্ছেন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। খাদ্যপণ্যের মানের এই যখন অবস্থা, তখন প্রশাসন এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এরই ধারাবাহিকতায় ২১ সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেগুফতা মেহেনাজ এর নেতৃত্বে চরপাড়া এলাকায় একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এ সময় মেডিকেল কলেজ গেইটের সামনে একটি ফাস্টফুডের দোকানকে ফ্রিজে কাঁচা মাংসের সাথে দৈ রাখার অপরাধে এবং চরপাড়া মোড়ে একটি মুরগীর দোকানে মূল্য তালিকা না টানানোর অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর যথাক্রমে ৫২ ও ৩৯ ধারা মোতাবেক ২,০০০/- টাকা এবং ১,০০০/- টাকা করে মোট ৩,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি উল্লিখিত এলাকায় মাস্ক না পড়ায় ১৮৬০ সালের বাংলাদেশ দন্ডবিধি'র ২৬৯ ধারায় একজনকে ৫০০/- টাকা জরিমানা করা হয়। মোবাইল কোর্ট চলাকালীন সময়ে কোর্টকে সহায়তা করেন উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ও প্রসিকিউটিং অফিসার জনাব মোঃ মাহবুব হোসেন, পেশকার জনাব উত্তম পন্ডিত এবং জেলা পুলিশের সদস্যবৃন্দ। ময়মনসিংহের সচেতন মহলের মতে-ভেজাল খাদ্যবিরোধী প্রশাসনের অভিযান নিঃসন্দেহে একটি মহতী উদ্যোগ। ভেজাল ও মানহীন খাদ্যের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। বলা বাহুল্য, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পাওয়া মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। ভেজাল খাদ্যের ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেওয়ায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবী -এ ভেজাল ও মানহীন খাদ্যের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য অস্বাস্থ্যকর ভেজাল খাদ্যের অসাধু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। আমরা মনে করি,ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন এ ক্ষেত্রে যে ভূমিকা পালন করেছে, তা আগামীতেও চলমান থাকবে। ভেজাল খাদ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের প্রতি দেখাতে হবে জিরো টলারেন্স।


Comments (0)