ঢাকা, সোমবার ০৬ ডিসেম্বর ২১ || ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮    Banglarpratidin.com

অধ্যাপক বকুলকে পেয়ে দীর্ঘ ৩০বছর পর ভোটের আমেজে দুল্লা ইউনিয়নের পাহাড়ি অঞ্চলবাসী।

প্রকাশিত: ১১:১৩ ২১ নভেম্বর ২১

অধ্যাপক বকুলকে পেয়ে দীর্ঘ ৩০বছর পর ভোটের আমেজে দুল্লা ইউনিয়নের পাহাড়ি অঞ্চলবাসী।

অধ্যাপক বকুলকে পেয়ে দীর্ঘ ৩০বছর পর ভোটের আমেজে দুল্লা ইউনিয়নের পাহাড়ি অঞ্চলবাসী।

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার দুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী পেয়েছেন ইউনিয়নের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের পাহাড়িয়া এলাকার ভোটাররা। এবার দুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে ৯টি ওয়ার্ডের মাঝে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সহ মোট ৮প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার মাঝে ৭,৮,৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রাম নিয়ে ঘটিত পাহারি অঞ্চলের একক প্রার্থী অধ্যাপক বকুল হোসেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও এলাকায় এই প্রথমবার প্রার্থী হিসাবে মাঠে নামায় তাকে নিয়ে তিন ওয়ার্ডের ভোটারদের মাঝে ব্যাপক ঝাক-জমক উৎসাহ উদ্দীপনা মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর এই প্রথম উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাহাড়িয়া গ্রামবাসী অধ্যাপক বকুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও এলাকায় নিজস্ব প্রার্থী পেয়েছে।এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসাবে দেখছেন এলাকার জনগণ। এর আগে ও পরে কোনো দিন ইউনিয়নের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড পাহাড়িয়া এলাকা থেকে কেউ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে পারেননি। ইউনিয়নের মধ্যভাগে নদী থাকায় দুল্লা ইউনিয়নটি নদীর এপার-ওপার দুইভাগে বিভক্ত। নদীর ওপারে ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড এর আগে কোন প্রার্থী না থাকায় নির্বাচনে যে কোন প্রার্থীকে এই তিন ওয়ার্ডের ভোটারদের দিকে চেয়ে থাকতে হতো। এই তিন ওয়ার্ডের মানুষ যেদিকে থাকতো সেদিকে ভোটের পাল্লা ভারী হতো।তবে এই এলাকায় এবার অধ্যাপক বকুল হোসেন প্রার্থী হওয়ায় ভোটের মাঠে দেখা দিয়েছে এক নতুন মাত্রা। খোজ নিয়ে জানা গেছে- দুল্লা ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩০হাজার। তার মাঝে ৭,৮,৯ এই তিন ওয়ার্ডের তিন কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১১হাজার। বাকী ৬টি ওয়ার্ডের ভোট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছেন আরো ৭প্রার্থী। সে হিসাবে ১১হাজার ভোট নিয়ে একক প্রার্থী হওয়ায় অধ্যাপক বকুল হোসেন প্রার্থী হিসাবে ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনতার মাঝে আলোচনায় রয়েছেন। ভোটাররা ধারণা করছেন এই তিন ওয়ার্ডের ভোটাররা যদি শেষ পর্যন্ত ঐক্য থাকে আর নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় তাহলে অধ্যাপক বুকুল হোসেন তার চশমা নিয়ে প্রথমবারের মত পাহাড়িয়া অঞ্চল এলাকার প্রথমবারের মতো জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে এতে কোন সন্ধেহ নেই। তবে শুক্রবার রাতে কামারিয়া গ্রামে বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন আলী (আনারস) ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই-দুইবারের সফল সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (নৌকা) এর মধ্যকার নির্বাচনী সহিংসতা ঘটায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কে বিরাজ করছে পাহাড়িয়া এলাকা তথা পুরো দুল্লা ইউনিয়নের জনতার মাঝে। তবে যত বাধাই আসুক না কেন পাহাড়ি অঞ্চলের ভোটাররা ঐক্যবদ্ধ তাদের নিজ এলাকার স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক বকুলকে নিয়ে।ঐক্যবদ্ধ পাহাড়ি এলাকাবাসী বকুলের চশমা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত ঘরে ফিরবে।সেই সৎ সাহস নিয়েই তারা এগিয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় কামারিয়া স্কুল মাঠে অধ্যাপক বকুল হোসেনের সমর্থনে বিশাল মতবিনিময় সভার আয়োজন করলে তারা ঐক্যের ডাক দিয়ে গর্জে উঠে। এসময় বক্ততারা বলেন-আমরা পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ায় এতদিন আমাদের কে পাহাড়ি হিংস্র প্রাণী মনে করা হতো,আমাদের সাথে প্রাণীর মতই আচরন করা হতো।তবে এখন আমাদের পাহাড়ি এলাকায় মানুষ জন্মেছে।অধ্যাপক বকুল নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আমাদের মানুষ হিসাবে প্রমাণ করেছে।নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখিয়েছে।আমরা আর অন্যের দিকে চেয়ে থাকবো না। অধ্যাপক বকুল সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছে, এজন্য আমরা পাহাড়ি অঞ্চলের ভোটাররা কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই। সভায় অধ্যাপক বকুল বলেন- পাহাড়ি অঞ্চলবাসীর সুখে দুঃখে পাশে থেকে কাজ করতে চাই, তিনি ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে চশমা প্রতীকে সকলের ভোট, দোয়া, ভালবাসা ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে পাহাড়ি অঞ্চল সহ দুল্লা ইউনিয়ন কে উন্নত,সমৃদ্ধ, দুর্নীতিমুক্ত ও ডিজিটাল মডেল ইউনিয়ন উপহার দিতে চাই।তিনি বলেন- আমাদের ভোট সবাই নেয়,তবে আমাদের কিছুই দেয়না,পাহাড়ি অঞ্চলের রাস্তা ঘাট দেখলে ৃনে হয় এই অঞ্চলের কোন অভিভাবক নেই,আমি এই এলাকার উন্নয়ন করতে চাই,ভালো স্কুল কলেজ না থাকায় আমরা শিক্ষায় পিছিয়ে আছি,নির্বাচিত এই এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়ন করবো,রাস্তা-ঘাট করবো,কথা দিলাম অবহেলিত এই এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সব সময় পাশে থাকবো। সভায় বক্তব্য রাখেন- স্থানীয় সমাজ সেবক নবাব আলী,ইউছুফ আলী,মাসুম মিয়া,সামওয়েল রেমা,প্রফেসর নজরুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন,আরিফ, ডাঃ জালাল উদ্দীন প্রমুখ।


Comments (3)

SA
Shakil Ahmed 11:10 pm Nov 21 2021

In sha allah joi amaderi hobe ❤️


K
Kamruzzaman 07:28 pm Nov 21 2021

দোয়া করি মহান আল্লাহ তায়ালা সাফল্য দান করুন। আমিন


E
Eakub 03:43 pm Nov 21 2021

Not Professor



রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
জনপ্রিয়